বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের মাননীয় বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মো. জাবিদ হোসেন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর দেওয়ানী আদালত পরিদর্শন করেছেন। আজ সোমবার (২৯/০৯) নবীনগর আদালত প্রাঙ্গণে এসে আদালতের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শনকালে বিচারপ্রার্থীসহ স্থানীয় জনগন ও আইনজীবীরা নবীনগরে দেওয়ানী মামলার পাশাপাশি ফৌজদারি আাদালত পূর্ণ প্রতিষ্ঠাসহ মামলার বিচারকার্যও দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু করার দাবি জানান।

বিচারপতিদ্বয়ের গাড়িবহর নবীনগর আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলাম, সার্কেল এসপি পিয়াস বসাক এবং নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোরশেদুল ইসলাম সহ আদালতের কর্মরত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী তাঁদের অভ্যর্থনা জানান।
এ সময় জেলা পুলিশ লাইন্স থেকে আগত পুলিশের একটি চৌকস দল বিচারপতিদ্বয়কে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

আদালত পরিদর্শনকালে বিচারপতিদ্বয় নবীনগর চৌকি আদালতের সিনিয়র সহকারী জজ মিজানুর রহমান এবং বাঞ্ছারামপুর চৌকি আদালতের জজ আনন্দ পালের এজলাসে বিচারকার্য পরিচালনা প্রত্যক্ষ করেন।
বার লাইব্রেরী পরিদর্শনের সময় বারের সভাপতি এড বিনয় চক্রবর্তীসহ বারের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। বারের সেক্রেটারী এডভোকেট আনিছুর রহমান আদালতে আইনজীবী গণের বসার জন্য টেবিল, কম্পিউটার এবং ফটোকপি মেশিন সরবরাহের দাবী করেন। তাঁরা আদালতের কার্যক্রম, বিচারপ্রক্রিয়া ও আইনজীবীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি উপস্থিত বিচারপ্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এ সময় আদালতে আসা বড়িকান্দি গ্রামের মো. শাহজাহান মিয়া (৬০),শ্রীরামপুর গ্রামের মোখলেছুর রহমান,কোনাউর গ্রামের জীবন মিয়াসহ অনেকেই বলেন, নবীনগরের উপজেলা একটি বড় উপজেলা ২১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে এই উপজেলা গঠিত,এই নবীনগর চৌকি যেমন যেমন শিক্ষায় দীক্ষায় উন্নত,পাশাপাশি দাঙ্গা হাঙ্গামার কারনে দাঙ্গা প্রবল এলাকা হিসেবেও চিহ্নিত। তাই এখানে ফৌজদারী আদালত নিতান্ত্র প্রয়োজন। আমরা ফৌজদারি কার্যক্রম শুরুর দাবি জানাচ্ছি”।

সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ যখন প্রশাসন বিকেন্দ্রিকরণ করে উপজেলা সিস্টেম চালু করেন তখনই নবীনগর দেওয়ানী আদালতের পাশাপাশি ফৌজদারী আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। প্রায় একযুগ ধরে ফৌজদারি কার্যক্রম চালু থাকা অবস্থায় পরবর্তীতে এ কার্যক্রম জেলা পর্যায়ে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়।

বিচারপতিদ্বয় আদালতের বিচারিক কার্যক্রম সম্প্রসারিত ও গতিশীল এবং দীর্ঘদিন ধরে বিচারপ্রক্রিয়ার অপেক্ষায় থাকা সাধারণ মানুষ আরও সহজে ও দ্রুত ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টির আশ্বাস দেন।