ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার—এই স্লোগানকে সামনে রেখে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ, ভালোবাসা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ১৪টি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ সালাহ্ উদ্দিন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি পূজার আয়োজক, সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্ত ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় তিনি তাঁদের খোঁজখবর নেন এবং শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানান।
মোঃ সালাহ্ উদ্দিন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ডাবল মাস্টার্স ডিগ্রিধারী। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে তাঁর এ পরিদর্শনে উৎসবের শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের চিত্র ফুটে ওঠে।
এ সময় মোঃ সালাহ্ উদ্দিন বলেন, “শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসব নয়, এটি আমাদের সবার আনন্দ, সম্প্রীতি ও ভালোবাসার উৎসব। ধর্ম যার যার, কিন্তু দেশ ও সমাজ আমাদের সবার। শ্যামগ্রাম ইউনিয়নে হিন্দু, মুসলিমসহ সব ধর্মের মানুষ যেন মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করতে পারেন, এটাই আমার প্রত্যাশা।”
তিনি আরও বলেন, “আজ ১৪টি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে সবার সঙ্গে কথা বলেছি, তাঁদের খোঁজখবর নিয়েছি এবং পূজার শুভেচ্ছা জানিয়েছি। মানুষের মুখে হাসি, মনে শান্তি আর পরিবারে নিরাপত্তা—এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হতে পারে না।
“আমি বিশ্বাস করি, মানুষের পরিচয় শুধু তাঁর ধর্মে নয়, মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও মানবিকতায়। আমি যদি আপনাদের সেবা করার সুযোগ পাই, তাহলে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।
“আমরা এমন একটি শ্যামগ্রাম গড়তে চাই, যেখানে কোনো মানুষ নিজেকে অসহায় মনে করবেন না; সবাই সমান মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে বাঁচবেন। আমরা চাই, প্রতিটি ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে পালন করবেন এবং একে অপরের আনন্দে অংশ নেবেন।
“আসুন, হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হই। উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করি, একে অপরের বিপদে পাশে দাঁড়াই। কারণ, মানুষের ভালোবাসাই একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় অর্জন।”
পরিশেষে তিনি শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি শারদীয় দুর্গাপূজার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে শ্যামগ্রাম ইউনিয়নে উৎসবের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক—এমন প্রত্যাশার কথাও উঠে আসে তাঁর শুভেচ্ছা বিনিময়ে।