ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ শফিকুল ইসলাম শফিকের বাড়িতে গভীর রাতে দুই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির উপস্থিতি এবং তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নবীনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার আবেদন করেছেন তিনি।

আবেদনে শফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন, গত ২১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১২টা ১০ মিনিটে রাতের খাবার শেষে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। পরে রাত আনুমানিক ১টা ৩০মিনিটের দিকে প্রাকৃতিক কাজের জন্য ঘরের বাইরে বাড়ির উঠানে গেলে দেশীয় অস্ত্র হাতে দুই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তাঁর সামনে এসে দাঁড়ায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শফিকুল ইসলামের দাবি, ওই ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চাইলে তাঁরা উত্তেজিত হয়ে তাঁকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এবং মারধরের উদ্দেশ্যে তাঁর ওপর আক্রমণের চেষ্টা চালায়। একই সঙ্গে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণে মেরে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলেও জিডির আবেদনে উল্লেখ করেছেন তিনি।

চিৎকারে বাড়ির লোকজনের সাড়া, ফেলে যায় জুতা ও গামছা আবেদনে আরও বলা হয়, এমন পরিস্থিতিতে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে শফিকুল ইসলাম চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা একজোড়া জুতা ও একটি গামছা ফেলে রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে তাঁর দাবি। পরে আশপাশের লোকজনের কাছে তিনি ঘটনাটি বর্ণনা করেন।

এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়ে শফিকুল ইসলাম জিডির আবেদনে তিনজনের নাম সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁরা হলেন—মোঃ কামরুল ইসলাম নিপু, শামীম মিয়া ও মোঃ মেহেদী হাসান।

নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার, তদন্তের দাবি একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে এমন ঘটনার অভিযোগে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শফিকুল ইসলাম। অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত এবং ভবিষ্যতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বিষয়টি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

তবে ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তাঁদের উদ্দেশ্য কী ছিল এবং অভিযোগের পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য, জিডি গ্রহণের অবস্থা কিংবা তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কেও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।

ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে শফিকুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।

প্রতিবেদকের নোট: এই প্রতিবেদনটি শফিকুল ইসলামের সাধারণ ডায়েরির আবেদনে উল্লেখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তৈরি। অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় জানা যায়নি এবং তাঁদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।