দুই ভাইয়ের একসঙ্গে বেড়ে ওঠা, একসঙ্গে খেলা আর ছোট্ট ছোট্ট দুষ্টুমিতে মুখর থাকার কথা ছিল যে বাড়ি, সেই বাড়িতেই এখন শুধুই কান্না আর শোকের মাতম। যে বয়সে পৃথিবীকে চিনতে শেখার কথা, বাবা-মায়ের হাত ধরে নতুন নতুন স্বপ্ন দেখার কথা, সেই বয়সেই চিরদিনের জন্য থেমে গেল দুই শিশুর জীবন। একটি ফুটবল আনতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছে যমজ দুই ভাই মোঃ হুজাইফা ও মোঃ আকরাম। তাদের দুজনেরই বয়স মাত্র দুই বছর।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের মেরকুটা গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহত দুই শিশু ওই গ্রামের সৌদি প্রবাসী মোঃ আক্কাস মিয়ার ছেলে।

খেলার বল আনতে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে বাড়ির পাশে ফুটবল নিয়ে খেলছিল দুই শিশু। একপর্যায়ে বলটি পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায়। বলটি আনতে গিয়ে দুই ভাই পানিতে পড়ে ডুবে যায় বলে জানা গেছে।

কিছুক্ষণ পর পুকুরপাড় দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় এক পথচারী পানিতে দুই শিশুর নিথর দেহ ভাসতে দেখেন। পরে তিনি পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। দ্রুত শিশু দুটিকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

মুহূর্তের মধ্যে আনন্দময় একটি পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। দুই সন্তানকে হারিয়ে শোকাহত পরিবারটির আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশের পরিবেশ। সন্তান হারানোর এই অপূরণীয় ক্ষতি কোনো সান্ত্বনাতেই পূরণ হওয়ার নয়।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম চৌধুরী জানান, এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো মামলা বা অভিযোগ করা হয়নি।

অভিভাবকদের প্রতি জরুরি সতর্কবার্তা এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয়, ছোট শিশুদের নিরাপত্তায় এক মুহূর্তের অসতর্কতাও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। বিশেষ করে বাড়ির আশপাশে পুকুর, ডোবা, খাল কিংবা জলাশয় থাকলে শিশুদের প্রতি বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

শিশুরা বিপদ সম্পর্কে বুঝতে পারে না। তাই তাদের একা বাড়ির বাইরে খেলতে দেওয়া উচিত নয়। বাড়ির আশপাশে জলাশয় থাকলে নিরাপদ বেড়া বা প্রতিবন্ধকতার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি পুকুরের পাড়ে শিশুদের খেলাধুলা বন্ধ করা এবং পরিবারের সদস্যদের সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি।

একটি বলের জন্য যেন আর কোনো শিশুর প্রাণ না যায়, কোনো বাবা-মায়ের কোল যেন এভাবে খালি না হয়। হুজাইফা ও আকরামের মর্মান্তিক মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্যই গভীর বেদনার পাশাপাশি বড় একটি সতর্কবার্তা।

শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পরিবার, প্রতিবেশী ও সমাজের সবার দায়িত্ব। একটু বাড়তি সতর্কতা, সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণ হয়তো এমন অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করতে পারে আরও অনেক শিশুর অমূল্য জীবন।