রাজনীতির পথ কখনো ফুলে বিছানো হয় না; কখনো সেই পথে আসে বাধা, প্রতিকূলতা, হতাশা আর নানা রকমের কঠিন অভিজ্ঞতা। তবুও মানুষের অধিকার, সংগঠনের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং রাজনৈতিক আদর্শকে ধারণ করে যারা এগিয়ে চলেন, তাঁদের পথচলা হয়ে ওঠে নতুন প্রত্যাশার গল্প। এমনই এক প্রত্যাশা নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ১৬ নং শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি পদপ্রার্থী হয়েছেন সাবেক ছাত্রদল নেতা মোঃ রিফাত সরকার।

তিনি শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের বানিয়াচং গ্রামের কৃতী সন্তান এবং সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোঃ গোরি মিয়ার ছেলে। ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক পথচলার সূচনা। শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিতি অর্জন করেন।
ছাত্ররাজনীতি থেকে যুবদলের নেতৃত্বের প্রত্যাশা ছাত্রজীবনে সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, সহকর্মীদের সঙ্গে পথচলা এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার যুবদলের নেতৃত্বে ভূমিকা রাখতে চান রিফাত সরকার। তাঁর এই প্রার্থিতাকে ঘিরে রয়েছে সংগঠনের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, তরুণদের সম্পৃক্ততা এবং তৃণমূলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার প্রত্যাশা।
একজন নেতার পরিচয় কেবল তাঁর পদ-পদবিতে সীমাবদ্ধ থাকে না। কর্মীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, দুঃসময়ে সহকর্মীদের পাশে থাকার মানসিকতা এবং সংগঠনের প্রতি দায়িত্ববোধই নেতৃত্বের পথকে অর্থবহ করে তোলে। রিফাত সরকারের রাজনৈতিক পথচলাতেও রয়েছে নানা অভিজ্ঞতা, যা সামনে তাঁর সাংগঠনিক ভূমিকা পালনে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
প্রতিকূলতার অভিজ্ঞতা পেরিয়ে এগিয়ে চলা
রাজনৈতিক জীবনে প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও রয়েছে রিফাত সরকারের। তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত সরকারের আমলে তাঁকে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনে প্রভাব ফেলেছে বলে তাঁর সমর্থকেরা মনে করেন।
তবে প্রতিকূলতার স্মৃতি আঁকড়ে ধরে থাকা নয়, বরং অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়াই হতে পারে একজন রাজনৈতিক কর্মীর বড় শক্তি। নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশায় রিফাত সরকারের সামনে এখন নিজেকে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, দায়িত্বশীলতা এবং কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের মাধ্যমে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে।
পদ নয়, কর্মীদের আস্থাই হোক নেতৃত্বের শক্তি
শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়া রিফাত সরকারের জন্য কেবল একটি পদ অর্জনের প্রত্যাশা নয়; এটি তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে নতুন দায়িত্বে কাজে লাগানোরও একটি সুযোগ। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, তরুণদের সংগঠিত করা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা প্রতিষ্ঠা এবং সংগঠনের ঐক্যকে গুরুত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়েই নেতৃত্বের প্রকৃত পরিচয় ফুটে ওঠে।
রাজনীতিতে প্রত্যাশা যেমন থাকে, তেমনি থাকে দায়িত্ব পালনের চ্যালেঞ্জও। তাই ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার ঊর্ধ্বে উঠে সংগঠনের স্বার্থ, কর্মীদের মর্যাদা এবং মানুষের কল্যাণকে প্রাধান্য দেওয়াই হতে পারে তাঁর আগামীর পথচলার গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার।
সবশেষে, শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি পদে রিফাত সরকারের প্রার্থিতা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার উপলক্ষ তৈরি করেছে। অতীতের অভিজ্ঞতাকে শক্তিতে রূপান্তর করে তিনি কতটা কার্যকর সাংগঠনিক ভূমিকা রাখতে পারবেন, তা নির্ভর করবে তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ড, নেতৃত্বের আচরণ এবং তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর।
ত্যাগের অভিজ্ঞতা হোক দায়িত্ববোধের শিক্ষা, আর নেতৃত্বের প্রত্যাশা পূরণ হোক মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে—এমন প্রত্যাশাই রইল রিফাত সরকারের আগামীর পথচলায়।