দীর্ঘ ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন পৌরসভার বাসিন্দা মো. সিদ্দিক মিয়া। বয়সের ভারে এখন ঠিকমতো হাঁটতেও পারেন না। তবুও সংসারের খরচ চালাতে জীবিকার তাগিদে রিকশার প্যাডেল ঘুরিয়ে চলেছেন বছরের পর বছর।
সম্প্রতি দৃষ্টিশক্তির সমস্যায় তার জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। একটি চোখের অপারেশন অনেক আগেই করিয়েছিলেন। বর্তমানে অপর চোখেও ভালোভাবে দেখতে পাচ্ছেন না। ফলে রিকশা চালানোও তার জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
চোখের অপারেশনের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র ৩ হাজার টাকা। সেই অর্থের ব্যবস্থা করার আশায় অসহায় সিদ্দিক মিয়া সাহায্যের জন্য দ্বারস্থ হন। প্রচণ্ড জ্বরে কাঁপতে থাকা অবস্থায় তিনি তার সমস্যার কথা জানাতে আসেন।
বিষয়টি জানতে পেরে তাকে নিজের বাইকে সঙ্গে নিয়ে সরাসরি সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নানের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সংসদ সদস্য তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং বিষয়টি জানার পর দেরি না করে তার পাশে দাঁড়ান। সিদ্দিক মিয়া যে সহায়তার আশায় এসেছিলেন, তার চেয়েও বেশি সহযোগিতা করেন তিনি।
একজন অসহায় রিকশাচালকের পক্ষে সরাসরি একজন সংসদ সদস্যের কাছে গিয়ে নিজের সমস্যার কথা বলতে পারা—স্থানীয় মানুষের কাছে বিষয়টি মানবিকতার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করেন মূলত তাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার প্রত্যাশায়। সেই প্রত্যাশার জায়গা থেকেই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এমন উদ্যোগ তাদের জন্য হয়ে ওঠে বড় ধরনের আশার জায়গা।
সিদ্দিক মিয়ার মতো নিম্নআয়ের মানুষের কাছে সামান্য সহায়তাও অনেক বড় ভরসা। একটি ছোট সহযোগিতা হয়তো একজন মানুষের জীবনে ফিরিয়ে দিতে পারে স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ।
অসহায় এই রিকশাচালকের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মানবিকতার এই ছোট ছোট উদ্যোগই সাধারণ মানুষের মনে জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আস্থা ও প্রত্যাশার জায়গাকে আরও দৃঢ় করে।