ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক জননন্দিত চেয়ারম্যান মরহুম শফিকুল ইসলাম বাতেনের অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার প্রত্যয় নিয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন তাঁর বড় ছেলে, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও লন্ডনপ্রবাসী মোহাম্মদ সাকিল আহমেদ। তাঁর নেতৃত্বে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বিশাল মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শোভাযাত্রাকে ঘিরে শ্যামগ্রাম বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে শ্যামগ্রাম মোহিনী কিশোর স্কুল অ্যান্ড কলেজ রোডসহ আশপাশের এলাকা।
শুক্রবার বিকেলে মরহুম শফিকুল ইসলাম বাতেন চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সামনে থেকে প্রথমে শ্যামগ্রাম বাজারে একটি মিছিল বের করা হয়। পরে সেখান থেকেই মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা শুরু হয়ে মাঝিয়ারা বাজারে পৌঁছায়। সেখানে বিভিন্ন দোকানে লিফলেট বিতরণ ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়।
এরপর শোভাযাত্রাটি বানিয়াচং মোড় হয়ে মানিকনগর বাজারে যায়। সেখানে লিফলেট বিতরণ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন সাকিল আহমেদ। পরে শাহবাজপুর মেডেল পয়েন্টে প্রচারণা চালিয়ে শ্রীঘর নুরু মার্কেটে পৌঁছান তিনি। সেখানেও লিফলেট বিতরণ ও স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে শোভাযাত্রাটি পুনরায় শ্যামগ্রাম বাজারে এসে শেষ হয়।
বাবার স্মৃতি, পরিবারের ঐতিহ্য ও অসমাপ্ত স্বপ্ন পূরণের অঙ্গীকার শোভাযাত্রা শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রুস্তম আহমেদ এবং চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ সাকিল আহমেদ বক্তব্য রাখেন।
বক্তব্যে সাকিল আহমেদ আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তাঁর প্রয়াত বাবা মরহুম শফিকুল ইসলাম বাতেন চেয়ারম্যানের স্মৃতিচারণা করে বলেন, “আমার বাবা শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের একজন জননন্দিত চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি এই ইউনিয়নের মানুষের জন্য অনেক কাজ করে গেছেন। মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা নিয়েই তিনি ইউনিয়নের উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। বাবার রেখে যাওয়া সেই স্মৃতি ও অসমাপ্ত কাজগুলো আজও আমাকে অনুপ্রাণিত করে।”
তিনি আরও বলেন, “আমার চাচা মোহাম্মদ রুস্তম আহমেদ চেয়ারম্যান থাকাকালীন ইউনিয়নবাসীর জন্য বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। আমার আরেক চাচা শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির তিনবারের সভাপতি, তিনিও এই এলাকার মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি অসুস্থ থাকায় আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে আমি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছি।”
নিজের প্রার্থিতার পেছনের প্রত্যয় তুলে ধরে সাকিল আহমেদ বলেন, “আমি আপনাদেরই সন্তান। আমার বাবা এই এলাকার মানুষের জন্য কাজ করেছেন, আমিও আপনাদের পাশে থেকে কাজ করতে চাই। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন আপনাদের ভালোবাসা ও সহযোগিতা নিয়ে বাবার অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারি। আমি চাই, শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন হবে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উন্নত জনপদ—যেখানে মানুষ নির্বিঘ্নে বসবাস করবে, তরুণরা সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখবে এবং সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার পাবে।”
তিনি আরও অঙ্গীকার করে বলেন, “আমি নির্বাচিত হতে পারলে আপনাদের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে শ্যামগ্রাম ইউনিয়নকে মাদক, চুরি ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। এলাকার রাস্তাঘাট, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্ব দেব। আমি একা কিছু করতে পারব না; আপনাদের সহযোগিতা, পরামর্শ ও ভালোবাসাই হবে আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। ইনশাআল্লাহ, আপনাদের দোয়া ও সমর্থন পেলে বাবার আদর্শকে ধারণ করে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখব।”
উন্নয়নের প্রত্যাশায় শ্যামগ্রামবাসী স্থানীয় রাজনীতিতে পারিবারিক ঐতিহ্য, প্রয়াত বাবার স্মৃতি এবং জনসেবার অঙ্গীকারকে সামনে রেখে মোহাম্মদ সাকিল আহমেদের এই প্রচারণা শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করেছে। মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার পাশাপাশি বাজারে বাজারে লিফলেট বিতরণ ও মানুষের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের মাধ্যমে তিনি নিজের প্রার্থিতার বার্তা পৌঁছে দেন।
এখন শ্যামগ্রাম ইউনিয়নবাসীর প্রত্যাশা—যে-ই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হোন, তিনি যেন এলাকার উন্নয়ন, শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে আন্তরিকভাবে কাজ করেন।
বাবার স্মৃতিকে হৃদয়ে ধারণ করে মানুষের ভালোবাসা অর্জন এবং শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার প্রত্যয় নিয়ে নিজের নির্বাচনী যাত্রা শুরু করলেন মোহাম্মদ সাকিল আহমেদ।