ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও কৃষকদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন নেতা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।
গত ৯ অক্টোবর কৃষি মন্ত্রণালয় নবীনগর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ২১টি ইউনিয়নের জন্য ২২ জন সার ডিলারের নামের তালিকা প্রকাশ করে। এরপর নিয়োগপ্রাপ্তদের রাজনৈতিক পরিচয় ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক একেএম মামুনুর রশিদ অভিযোগ করেন, নবীনগরে কৃষকদলের কাউকে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়নি। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিমও দলীয় আবেদনকারীদের উপেক্ষা করে আত্মীয় ও ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজীব আহসান চৌধুরীও নিয়োগপ্রাপ্তদের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
কৃষকদল নেতা একেএম মামুনুর রশিদ মুঠোফোনে বলেন, বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে কৃষকদলের ব্যবসায়ী নেতারা আবেদন করলেও তাঁদের কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, সংসদ সদস্যের সুপারিশ করা ব্যক্তিরাই নিয়োগ পেয়েছেন। অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির কৃষিবিষয়ক সম্পাদক এম এ কাহার বলেন, লাউর ফতেপুর ইউনিয়ন থেকে তিনি আবেদন করেও ডিলারশিপ পাননি। তাঁর অভিযোগ, নিয়োগপ্রাপ্ত সাইফুল ইসলাম আগে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ২০২৪ সালের পর এনসিপির রাজনীতিতে যুক্ত হন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান বলেন, সার ডিলার নিয়োগ সরকারি প্রক্রিয়া, এটি কোনো দলীয় নিয়োগ নয়। তিনি কাউকে ডিও লেটার দেননি বলেও দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ থাকলে তা উপস্থাপন করা উচিত।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, মোট ১৭৩টি আবেদন থেকে যাচাই-বাছাই করে ৬৬ জনের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সেখান থেকে আপাতত ২২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ব্লকভিত্তিক আরও ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। তাঁর দাবি, সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো ডিও লেটার তাঁরা পাননি।
সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাই, নির্বাচনের মানদণ্ড স্পষ্ট করা এবং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য প্রকাশ করা হলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।