শিরোনাম :
বাবুল চেয়ারম্যানের স্মৃতি বুকে নিয়ে কুড়িনালবাসীর দ্বারে শফিক, উন্নয়নের নতুন অঙ্গীকার নবীনগর প্রবাসী ফোরাম বিএনপির প্রধান কার্যালয় উদ্বোধন করলেন এমপি আব্দুল মান্নান। নবীনগরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই এরশাদ মিয়ার বসতঘর, ক্ষতি প্রায় ৫ লাখ টাকা নবীনগরে কোনো চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যুর ঠাঁই হবে না: এমপি আব্দুল মান্নান। সাম্য, সম্প্রীতি ও মানবতার চেতনায় নতুন প্রজন্মকে গড়তে হবে নবীনগরে এমপি আব্দুল মান্নান নতুন প্রজন্মকে নজরুলের সাম্য ও মানবতার আদর্শে গড়ে তোলার আহ্বান এমপি এড. আব্দুল মান্নান ত্যাগের স্মৃতি বুকে, নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশায় রিফাত সরকার—শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি পদপ্রার্থী তৃণমূলের আস্থা অর্জনের প্রত্যয়ে শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি পদে লড়তে চান বাদল সরকার নারীশিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে: নবীনগরের রসুল্লাবাদে এমপি আব্দুল মান্নান। নদী রক্ষা কমিটির সভায় নবীনগরে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে যৌথবাহিনীর অভিযানের দাবি উত্থাপন
শনি, ৩১ অক্টো ২০২৬, ১০:৫১ পূর্বাহ্ন

বাবুল চেয়ারম্যানের স্মৃতি বুকে নিয়ে কুড়িনালবাসীর দ্বারে শফিক, উন্নয়নের নতুন অঙ্গীকার

মোঃ নিজাম উদ্দিন নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি / ২ ভিউ
আপডেট : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

বাবার সেবার ঐতিহ্য, বড় ভাইয়ের উন্নয়নের স্মৃতি ও রাজনৈতিক ত্যাগের গল্প তুলে ধরে মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় শফিকুল ইসলামের বাবার রেখে যাওয়া মানুষের ভালোবাসা, বড় ভাইয়ের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের স্মৃতি আর নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার অভিজ্ঞতা—সবকিছু মিলিয়ে শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শফিকুল ইসলাম শফিক। তাঁর কাছে এই পথচলা শুধু একটি নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং পারিবারিক সেবার ঐতিহ্য ও মানুষের আস্থার মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকার।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের কুড়িনাল গ্রামবাসীর সঙ্গে তাঁর নির্বাচনী আলোচনা সভা ও উঠান বৈঠক পরিণত হয় এক মিলনমেলায়। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বাদ এশা কুড়িনাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এ সভায় স্থানীয় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আব্দুল ওয়াহেদের সভাপতিত্বে এবং কাজী সজিবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শফিকুল ইসলাম শফিক।

অনুষ্ঠানে সহসভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ শহিদ মিয়া। প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ ফারুক আহমেদ ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ শফিকুল ইসলাম।

এ সময় বক্তব্য রাখেন শ্যামগ্রাম মোহিনী কিশোর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক সভাপতি মোঃ সুমন মিয়া, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ আলী, শেখ রহমত উল্লাহ পলাশ, চিত্রশিল্পী সৈয়দ রমিজ উদ্দিন খোকন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম, মরহুম আমির হোসেন বাবুল চেয়ারম্যানের ছোট ছেলে জাহিদুল ইসলাম জিহাদ, ছাত্রনেতা তোফাজ্জল হোসেন তুহিন, সাবেক ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম, মোঃ আতিকুর রহমান, মোঃ মিঠু মিয়া, সজিব মিয়া, মোঃ শাহ পরান, মনিরুল ইসলাম ও মামুন জিসান প্রমূখ।

এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফজলুল হক মোমেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ আলমগীর হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বাবুল চেয়ারম্যানের স্মৃতি ও অসমাপ্ত কাজ শেষ করার প্রত্যাশা সভাপতির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আব্দুল ওয়াহেদ আবেগাপ্লুত কণ্ঠে মরহুম আমির হোসেন বাবুল চেয়ারম্যানের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, কুড়িনাল গ্রামের মানুষের জন্য বাবুল চেয়ারম্যান আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন। রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন উন্নয়নে তাঁর অবদান মানুষ আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। তাঁর রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজগুলো এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

অন্যান্য বক্তারাও মরহুম বাবুল চেয়ারম্যানের সময়কার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, শফিকুল ইসলাম শফিক নির্বাচিত হলে এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকবেন—এমন প্রত্যাশা তাঁদের। তাঁদের ভাষায়, প্রয়োজনে দিন কিংবা রাত, তাঁকে পাশে পাওয়ার যে অভিজ্ঞতা রয়েছে, সেটিই মানুষের প্রত্যাশাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বাবার সেবার ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক ত্যাগের গল্প প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুল ইসলাম শফিক নিজের পারিবারিক ও রাজনৈতিক জীবনের নানা অধ্যায় তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “আমার বাবা মরহুম নিজাম উদ্দিন মেম্বার দীর্ঘদিন এই এলাকার মানুষের সেবা করেছেন। মানুষের পাশে থেকে কাজ করেছেন। আমার বড় ভাই মরহুম আমির হোসেন বাবুলও আপনাদের ভালোবাসা নিয়ে ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের কাছ থেকেই আমি মানুষের পাশে থাকার শিক্ষা পেয়েছি।”

নিজের রাজনৈতিক পথচলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি ২০১১ সাল থেকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। দীর্ঘ এই পথচলায় অনেক চড়াই-উতরাই পার করতে হয়েছে। আমার বড় ভাই কঠিন রাজনৈতিক সময়েও বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন।”

বিগত সরকারের সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শফিকুল ইসলাম বলেন, “রাজনৈতিক কারণে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা অসংখ্য মামলা, জেল-জুলুম এবং আর্থিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। শ্যামগ্রাম ইউনিয়নে বিএনপির নাম উচ্চারণ করতেও যখন অনেকে সাহস পেতেন না, তখন আমার ভাই ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন। এসব ত্যাগ ও কঠিন সময় আমাদের পথচলার অংশ।”

তিনি আরও বলেন, “আজও আমি মানুষের পাশে থাকতে চাই। আমার রাজনীতির মূল শক্তি মানুষের ভালোবাসা, ত্যাগ ও বিশ্বাস। মানুষের এই বিশ্বাসের মর্যাদা দিতে চাই আজীবন।”

কুড়িনালের উন্নয়নে সর্বোচ্চ বরাদ্দের চেষ্টা, সড়ক সংস্কারের অঙ্গীকার কুড়িনাল গ্রামের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, “আপনারা আমাকে নির্বাচিত করলে শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে যে বরাদ্দ আসবে, তা থেকে কুড়িনাল গ্রামের উন্নয়নে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়ার চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।”

তিনি বিশেষভাবে কুড়িনাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ব্রিজ হয়ে শহিদ সাহেবের বাড়ি পর্যন্ত সড়কটির বেহাল অবস্থার কথা উল্লেখ করেন। নির্বাচিত হলে সাইটওয়াল নির্মাণসহ রাস্তাটি সংস্কার করে সুন্দর ও চলাচলের উপযোগী করার অঙ্গীকার করেন।

আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার বড় ভাই যেভাবে আপনাদের পাশে থেকে কাজ করে গেছেন, আমিও ঠিক সেভাবেই আপনাদের পাশে থাকতে চাই। প্রয়োজনে আমার শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও কুড়িনাল গ্রামের মানুষের জন্য কাজ করে যাব, ইনশাআল্লাহ।”

তিনি আরও বলেন, মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতাই তাঁর পথচলার সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি কুড়িনালবাসীর দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা কামনা করেন।

স্মৃতি, ত্যাগ ও নতুন প্রত্যাশার গল্প কুড়িনালের এই উঠান বৈঠকে একদিকে উঠে এসেছে মরহুম নিজাম উদ্দিন মেম্বারের জনসেবার স্মৃতি, অন্যদিকে মরহুম আমির হোসেন বাবুল চেয়ারম্যানের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের আলোচনা। পাশাপাশি শফিকুল ইসলাম শফিকের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, প্রতিকূল সময়ের অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনাও স্থানীয় মানুষের সামনে উঠে আসে।

বাবার জনসেবা, বড় ভাইয়ের উন্নয়নের স্মৃতি এবং নিজের রাজনৈতিক জীবনের ত্যাগকে সামনে রেখে শফিকুল ইসলাম শফিক যে প্রত্যয়ের কথা জানিয়েছেন, তার মূল বিষয় হচ্ছে মানুষের পাশে থাকা এবং এলাকার অসমাপ্ত উন্নয়নকাজ এগিয়ে নেওয়া।

সব মিলিয়ে কুড়িনালের এই উঠান বৈঠক ছিল পারিবারিক স্মৃতি, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, উন্নয়নের প্রত্যাশা ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের এক আবেগঘন সমাবেশ। এখন স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা—উত্থাপিত উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো বাস্তবে কতটা প্রতিফলিত হয়, সেটিই হবে ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।


এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ