রাজধানীর আদাবরে শ্যামলী হাউজিংয়ের একটি আটতলা ভবন দখল করতে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দুর্বৃত্ত দল রামদা, চাপাতি, পিস্তল নিয়ে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, গত শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
দুর্বৃত্তরা দলবদ্ধভাবে এসে প্রথমে টাকা চায়। বলে, বাসায় থাকিস আর টাকা দিবি না? এই কথা বলতে বলতে বাসার মূল ফটকে কোপানো শুরু করে। জানালার কাচ ভাঙচুর করে। বাসার গেট খুলে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেছে।
তবে গেট খুলতে না পারায় ভাঙচুর করে পালিয়ে যায়।’
জানা যায়, বাড়িটির মালিক আমিনুর রহমান একজন ব্যবসায়ী। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরও একবার বাড়িটি দখল করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন আমিনুর রহমানের ভাতিজা মনির হোসেন।
মনির হোসেন সাংবাদিকদের জানান, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ১৫ থেকে ২০ জন লোক তাঁদের বাড়িটির সামনে আসে।
কিছুক্ষণ বাড়িটি পর্যবেক্ষণ করার পর চারজন মূল ফটকের সামনে আসে। তাদের মধ্যে দুজনের হাতে চাপাতি, একজনের হাতে রামদা ছিল। ফটকের একটু দূরে পিস্তল হাতে একজন দাঁড়িয়ে ছিল। ওই ব্যক্তিই এই হামলার নির্দেশ দেয়।
মনির হোসেনের দাবি, প্রথমে এসেই তারা বাড়ির মূল ফটকের গেট খুলতে এবং সবাইকে বের হয়ে যেতে বলে।
কিন্তু কেউ বের না হওয়ায় বলা শুরু করে, ‘টাকা দে। বাড়িতে থাকিস, টাকা দিস না। বের হ।’ এই কথা বলতে বলতে চাপাতি, রামদা দিয়ে গেটে এলোপাতাড়ি কোপানো শুরু করে। গেটের সামনে থাকা সিসিটিভি (ক্লোজ সার্কিট) ক্যামেরা, জানালার কাচ ভাঙচুর করে। ইটের টুকরা দিয়ে দোতলার আরো দুটি জানালার কাচ ভেঙে ফেলে। বাড়ির ভেতরে ঢুকতে না পেরে ৫ মিনিটের মধ্যে ভাঙচুর করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।’
মনির হোসেনের অভিযোগ, ভাঙচুর চলাকালে তিনি জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশকে খবর দিয়েছিলেন, কিন্তু পুলিশ আসতে দেরি করে। ঘটনার প্রায় তিন ঘণ্টা পর পৌনে ১০টার দিকে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এ ঘটনায় আদাবর থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মনির হোসেন।
মনির হোসেনের আরো দাবি, ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট খোরশেদ আলম নামের এক ব্যক্তি বাড়িটি দখল করে নেন। তখন আদাবর থানায় অভিযোগ করা হলেও সুরাহা হয়নি। এক পর্যায়ে আদালতে মামলা করেন। আদালত আদাবর থানাকে তদন্ত করতে বলেন। পরবর্তী সময়ে এই মামলা পিবিআই তদন্ত করে। গত ১২ মার্চ বাড়িটি দখল ফেরত পান তাঁরা। আদাবর থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর পুলিশ বাড়িটি পরিদর্শন করেছে। তারা তদন্ত করে দেখছে।