ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম মোহিনী কিশোর স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন ফুটবল একাদশ ও নেত্রকোনা ফুটবল একাদশের মধ্যে এক জমজমাট প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উত্তেজনাপূর্ণ এ খেলায় নেত্রকোনা ফুটবল একাদশকে ৪-২ গোলে পরাজিত করে জয় তুলে নেয় শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন ফুটবল একাদশ। প্রিয় দলের জয়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন উপস্থিত দর্শক ও ফুটবলপ্রেমীরা।
খেলাটি ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন আলমের সভাপতিত্বে এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক শাহিদ আহমেদের সঞ্চালনায় উক্ত খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের জননন্দিত সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম শফিকুল ইসলাম বাতেন চেয়ারম্যানের বড় ছেলে, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী লন্ডন প্রবাসী মোহাম্মদ সাকিল আহমেদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম মামুন, ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলাম, হাফেজ মোহাম্মদ আজিম, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম সবুজ, শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি মো. কাজল মিয়া, যুবদল নেতা মো. লতিফসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
খেলাধুলার মাধ্যমে অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ সাকিল আহমেদ বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে শ্যামগ্রাম ইউনিয়নে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে আসছি। আমি বিশ্বাস করি, খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটায় এবং মাদকসহ নানা সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে থাকতে অনুপ্রাণিত করে।
আমি চাই, শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের প্রতিটি মহল্লায় এমন খেলাধুলার আয়োজন হোক। তরুণেরা মাঠে ফিরুক, খেলাধুলায় মনোযোগী হোক, সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত হোক। এ ধরনের ইতিবাচক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে আমি সবসময় থাকতে চাই এবং আমার সাধ্যমতো সহযোগিতা করে যেতে চাই। তিনি আরও বলেন, একটি সুন্দর, সুস্থ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়তে তরুণদের ইতিবাচক কাজে সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।
খেলাধুলায় জাগুক তারুণ্য, সম্প্রীতিতে এগিয়ে যাক শ্যামগ্রাম একটি ফুটবল ম্যাচ কেবল জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়; এটি পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব ও সামাজিক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে। মাঠের এই প্রাণবন্ত আয়োজন তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলবে এবং মাদক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীদের।
শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন ফুটবল একাদশের ৪-২ গোলের জয় শুধু একটি ম্যাচের ফল নয়, বরং স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টির একটি উপলক্ষ। নিয়মিত এমন আয়োজনের মধ্য দিয়ে শ্যামগ্রামের মাঠগুলো আবারও তরুণদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠুক—এটাই সবার প্রত্যাশা।